কুমিল্লা তিতাস থানায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলামকে র‍্যাব সদস্য কর্তৃক গুলি করে হত্যার অভিযোগ

- মো. কোরবান আলী


৪ এপ্রিল ২০১১ রাত ২.৩০টার দিকে কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার জিয়ার কান্দি গ্রামের মৃত চাঁন মিয়া ও জবেদা খাতুন এর ছেলে এবং জিয়ার কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪৫) কে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ১১ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী (সিপিসি)-১ এর সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে।

শফিকুলের স্ত্রী বলেন যে, তিনি জানতে পেরেছেন যে, র‍্যাব সদস্যরা শফিকুলকে ঢাকার ডেমরা এলাকা থেকে ধরে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার ছোট কামারের চর দবিণপাড়া গ্রামে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার ঘটনাটি সরজমিনে তথ্যানুসন্ধান করে। তথ্যানুসন্ধানকালে অধিকার কথা বলে-
  1. নিহত শফিকুলের আত্মীয়স্বজন
  2. প্রত্যক্ষদর্শী
  3. হাসপাতালের মর্গ-সহকারী, ও
  4. আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে।

 

তাহমিনা আক্তার (৩৬), শফিকুলের স্ত্রী

তাহমিনা আক্তার অধিকারকে জানান, তাঁর স্বামী মোঃ শফিকুল ইসলাম তিতাস থানা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং জিয়ার কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ১৮ নভেম্বর ২০১০ জিয়ার কান্দি গ্রামের মৃত নজির আহমেদের ছেলে কোরবান আলীকে একদল লোক কুপিয়ে জখম করে। তাঁর স্বামী সংবাদ পেয়ে চিকিৎসার জন্যে কোরবানকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালে কোরবান মারা যান। তাঁর স্বামী আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্ত্ততি নিচ্ছিলেন। নির্বাচনে যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করতে পারেন সেজন্যে প্রতিপক্ষ লোকজনের  চক্রান্তে কোরবানের মাকে বাদী করে তাঁর স্বামীসহ ১৪জনকে আসামী করে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তাঁর স্বামী সেই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। তিনি তাঁর স্বামী ও ছেলে মেয়েদের নিয়ে ঢাকার পলস্নবী এলাকার সাড়ে ১১ নম্বর সেকশনে দুয়ারী বাজার ইর্স্টান হাউজিং এ থাকতেন।

৩ এপ্রিল ২০১১ সকাল ৯.৩০টার দিকে জামিনের সময় বাড়ানোর জন্যে তাঁর স্বামী দুয়ারী বাজারের ইর্স্টান হাউজিং এর বাসা থেকে হাইকোর্টে যান। দুপুর ২.০০টার দিকে শফিকুল মোবাইল ফোনে তাঁকে জানান, জামিনের শুনানী হয়নি, অন্য দিন হবে। শফিকুলের সঙ্গে একই মামলায় অন্য আসামী ছিলেন মকবুল নামে

একলোক। শফিকুল মোবাইল ফোনে তাঁকে জানান, মকবুল তাঁকে পরামর্শ দিচ্ছেন যে, নিহত কোরবানের ভাই আব্দুল মজিদ ঢাকার ডেমরা থানার কাজলা এলাকায় আছেন। আব্দুল মজিদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলাটি তুলে ফেলার চেষ্টা করবেন। এ জন্যে শফিকুল বাসায় না ফিরে হাইকোর্ট থেকে মকবুলের সঙ্গে ডেমরার কাজলায় যান। রাত ১০.০০টা বেজে গেলেও শফিকুল বাসায় না ফেরায় তিনি বার বার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে মোবাইল ফোন বন্ধ পান। ৪ এপ্রিল ২০১১ রাত ২.০০টার দিকে মকবুল মোবাইল ফোনে তাহমিনাকে জানান, মকবুল যখন শফিকুলকে নিয়ে কাজলায় গিয়েছিলেন, তখন কোরবানের ভাই আব্দুল মজিদকে পাননি। পরে মকবুল কাজলা সিএনজি পাম্পের কাছে শফিকুলকে রেখে জিয়ার কান্দিতে চলে যান। মকবুল তাহমিনাকে আরো বলেন, মকবুল কাজলা এলাকার এক লোকের মাধ্যমে শুনেছেন যে, রাত ১০.০০টার দিকে সাদা পোশাকধারী ৬/৭ জন লোক সিএনজি পাম্পের কাছ থেকে শফিকুলকে সাদা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গেছে।

৪ এপ্রিল ২০১১ রাত ২.৩০টার দিকে মকবুল আবারও তাঁকে ফোনে জানান যে, তিনি এক লোকের কাছ থেকে খবর পেয়েছেন যে, র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা শফিকুলকে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার ছোট কামারের চর দÿÿণপাড়া গ্রামে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। তিনি তখন মকবুলের কাছে বার বার জানতে চান, কে এই খবর গুলো তাঁকে দিচ্ছে। কিন্তু মকবুল সংবাদদাতার নাম তাঁকে বলেননি। শফিকুলের ভাতিজা শাকিল আহমেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। শাকিলকে তিনি আড়াইহাজার থানা এবং হাসপাতালে গিয়ে শফিকুলের খবর নিতে বলেন। এছাড়া তিনি ঢাকার মালিবাগে শফিকুলের ভাতিজি ফাতেমা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শফিকুলের খবর নিতে বলেন।

৪ এপ্রিল ২০১১ সকাল ১০.০০টার দিকে ফাতেমা বেগম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে মোবাইল ফোনে তাঁকে জানান, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যদের কঠোর পাহারায় তাঁর চাচা শফিকুলের লাশ মর্গে রয়েছে। তিনি পলস্নবী থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে লাশ দেখেন। তিনি দেখতে পান, লাশের বুকে এবং বাম পাঁজরে মোট পাঁচটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। তিনি লাশ বাড়ী নেয়ার জন্যে মর্গের বাইরে অপেÿা করতে থাকেন। মর্গের কাছে সাংবাদিকরা ভীড় জমাতে থাকেন। বিকাল ৩.০০টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা হঠাৎ একটি মাইক্রোবাসে করে এসে মর্গ থেকে লাশটি নেয়ার চেষ্টা করে। তিনি র‌্যাব সদস্যদের বলেন, ময়না তদমত্ম ছাড়া লাশ কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। র‌্যাব সদস্যরা ÿÿপ্ত হয়ে তাঁকে বলেন, যেখানে খুশি সেখানে তারা লাশ নিয়ে যাবে এবং তাঁকে বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি দেয়। উপস্থিত সাংবাদিকরা লাশ মর্গ থেকে নিয়ে যাওয়ার কারণ র‌্যাব সদস্যদের কাছে জানতে চান। র‌্যাব সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে হওয়ায় থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্ত্তত করেছে। কিন্তু সেই সুরতহাল প্রতিবেদনটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে গেলে লাশ না দেখে ম্যাজিস্ট্রেট স্বাÿর করেননি। তাই লাশ নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদনে স্বাÿর করাবেন। তিনি তখন লাশের সঙ্গে যাওয়ার জন্যে র‌্যাবের মাইক্রোবাসটিতে ওঠেন। কিন্তু র‌্যাব সদস্যরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দেয় এবং বলে লাশের সঙ্গে যেতে হলে অন্য একটি গাড়ী নিয়ে যেতে হবে। তিনি তখন অন্য একটি মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে লাশ বহনকারী মাইক্রোবাসের পেছনে পেছনে যান। কিছু দুর যাওয়ার পর র‌্যাব সদস্যদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি অন্য রাসত্মা চলে যায়। তিনি নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন, কোন লাশ মর্গে আনা হয়নি। তবে যেহেতু নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের মর্গের মেরামত কাজ চলছে, তাই লাশ মুন্সীগঞ্জ নেয়া হতে পারে। তিনি তখন মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে যান। সন্ধ্যা ৬.০০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে একব্যক্তি ফোন করে তাঁকে জানান, র‌্যাব সদস্যরা শফিকুলের লাশ মর্গে এনেছে। তিনি তখন মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আসেন। লাশের ময়না তদমত্ম শেষ হলে রাত ১১.০০টার দিকে মর্গ থেকে লাশ নিয়ে জিয়ার কান্দি বাসায় ফেরেন।

৫ এপ্রিল ২০১১ বিকাল ৫.০০টার দিকে জিয়ার কান্দি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীর প্রতিপÿরা টাকার বিনিময়ে র‌্যাব সদস্যদের ব্যবহার করে হত্যা করেছে।

ফাতেমা বেগম (৩০), নিহতের ভাতিজি

ফাতেমা বেগম অধিকারকে জানান, ৪ এপ্রিল ২০১১ সকাল ৯.৩০টার দিকে তাঁর কাকী তাহমিনা মোবাইল ফোনে তাঁকে জানান, তাঁর কাকা শফিকুলকে রাতে র‌্যাব সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে। লাশ দেখার জন্যে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলেন। তিনি কাকীর কথামত সকাল ১০.০০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে যান। লাশটি দেখার জন্যে তিনি লাশের কাছে যেতে চাইলে র‌্যাব এবং পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বাঁধা দেন। পরে এক সাংবাদিকের সহযোগিতায় তিনি লাশ দেখার সুযোগ পান এবং লাশটি তার কাকার বলে সনাক্ত করেন। তিনি মোবাইল ফোনে আত্মীয় স্বজনকে জানান।

ফারম্নক আহমেদ (২৯), প্রত্যÿদর্শী

ফারম্নক আহমেদ অধিকারকে জানান, ৪ এপ্রিল ২০১১ তিনি নারায়ণগঞ্জের ছোট কামারের চর দÿÿণ পাড়ার নিজ বাড়ীতে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক ২.১৫টার দিকে বাড়ীর পাশে ‘এমআরএমটিআইএন মিলে’র কাছে ‘ডাকাত ডাকাত’ শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙ্গে যায়। তিনি টর্চ নিয়ে মিলের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। তখন ৫/৬টি গুলির শব্দ শোনেন। মিলের কাছে এসে দেখেন, প্রায় ৭/৮ জন র‌্যাব সদস্য অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাশেই একজন লোকের লাশ পরে আছে, গলায় এবং বুকে রক্তের দাগ। লাশের হাতের কাছে একটি অস্ত্র এবং একটি গুলি পরে আছে। র‌্যাব সদস্যরা জানান, ডাকাত দলের সঙ্গে তাদের গুলি বিনিময়ের সময় একজন লোক গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এসময় একজন র‌্যাব সদস্য তাঁকে একটি লেখা কাগজে স্বাÿর করতে বলেন। তিনি কোন কথা না বলে স্বাÿর করে বাড়ী চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন, নিহত ওই ব্যক্তি ছিল কুমিলস্না জেলার তিতাস থানার জিয়ার কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম।

মোঃ সানা উলস্নাহ (২৩), প্রত্যÿদর্শী

মোঃ সানা উলস্নাহ অধিকারকে বলেন, ৪ এপ্রিল ২০১১  রাতে নারায়ণগঞ্জের ছোট কামারের চর দÿÿণ পাড়ার নিজ বাড়ীতে ঘুমিয়েছিলেন। রাত ২.১৫টার দিকে ‘ডাকাত ডাকাত’ শব্দে তিনি ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তিনি বাড়ীর বাইরে বের হওয়ার পর ৫/৬ টি গুলির শব্দ শোনেন। তিনি গুলির শব্দ শুনে ‘এমআরএমটিআইএন মিলে’র দিকে এগিয়ে যান। তিনি গিয়ে দেখেন, অস্ত্র এবং টর্চ হাতে ৭/৮ জন র‌্যাব সদস্য গুলিবিদ্ধ একটি লাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। লাশের হাতের কাছে একটি অস্ত্র এবং একটি গুলি পরে রয়েছে। তাঁকে দেখে একজন র‌্যাব সদস্য জিজ্ঞাসা করেন, মৃত লোকটিকে চিনেন কিনা। তিনি চেনেন না বলেন জানালে একটি লেখা কাগজে একজন র‌্যাব সদস্য তাঁকে স্বাÿর দিতে বলে। তিনি র‌্যাব সদস্যদের কাছে জানতে চান তাঁকে কেন সাÿর দিতে হবে। র‌্যাব সদস্যরা জানায়, এখানে গোলাগুলি হয়েছে তা এ কাগজে লেখা আছে। তিনি বলেন, লেখা না পড়েই র‌্যাব সদস্যদের ভয়ে তিনি সেই কাগজে স্বাÿর করে দেন।

এসআই আশরাফুজ্জামান, সেকেন্ড অফিসার, আড়াইহাজার থানা, নারায়ণগঞ্জ

এসআই আশরাফুজ্জামান অধিকারকে জানান, র‌্যাব-১১ সিপিসি-১ এর ডিএডি ইউনুস বাদী হয়ে ৪ এপ্রিল ২০১১ দুইটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১; তারিখঃ ০৪/০৪/২০১১। ধারা-১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯-এ। আসামীঃ শফিকুলসহ অজ্ঞাতনামা ৬/৭জন।

মামলা নম্বর ২; তারিখঃ ০৪/০৪/২০১১। ধারা-১৮৬/৩০৭/৩৩২/৩৫৩/৩০২/৪২৭ দ-বিধি। আসামীঃ অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জন। মামলা ২টির তদমত্মকারী কর্মকর্তা এসআই জাহিরম্নল ইসলাম। এছাড়া শফিকুলের নামে থানায় অন্য কোন মামলা নেই।

এসআই জাহিরম্নল ইসলাম, আড়াইহাজার থানা, নারায়ণগঞ্জ

এসআই জাহিরম্নল ইসলাম অধিকারকে জানান, ৪ এপ্রিল ২০১১ সকালে থানা থেকে জানতে পারেন, আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে একটি লাশ আছে। তিনি স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে যান এবং র‌্যাব সদস্যদের হেফাজতে একটি লাশ দেখেন। তিনি লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্ত্তত করেন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ময়না তদমেত্মর ব্যবস্থা না থাকায় লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তিনি সুরতহাল প্রতিবেদনটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে যান। তিনি বলেন, লাশ ঢাকায় পাঠানোর কারণে লাশ না দেখে ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদনে স্বাÿর করেননি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লাশ এনে ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদনে স্বাÿর করান। ছোট কামারের চর দÿÿণপাড়া এলাকায় র‌্যাব এবং ডাকাত সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। সে ঘটনায় লোকটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে র‌্যাব-১১ সিপিসি-১ এর ডিএডি ইউনুস বাদী হয়ে ৪ এপ্রিল ২০১১ দুইটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১ এবং ২; তারিখঃ ০৪/০৪/২০১১। তিনি মামলা ২টি তদমত্ম করছেন।

আরমান উদ্দিন চৌধুরী, কোম্পানী কমান্ডার, সিপিসি-১, র‌্যাব-১১, আদমজী, নারায়ণগঞ্জ

আরমান উদ্দিন চৌধুরী অধিকারকে বলেন, ৪ এপ্রিল ২০১১ ডিএডি মোঃ ইউনুস আলীর নেতৃত্বে একদল র‌্যাব সদস্য নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার গোপালদী রোডে বিশেষ ডিউটি করছিলেন। রাত ২.১০টায় ছোট কামারের চর দÿÿণপাড়া এলাকার এমআরএমটিআইএন মিলের কাছে একদল লোক ডাকাতি করার জন্যে পরিকল্পনা করছে, এখবর পেয়েই র‌্যাব সদস্যরা এগিয়ে যায়। র‌্যাব সদস্যরা এলাকা ঘিরে ফেলে এবং ডাকাত দলের সঙ্গে তাদের প্রায় ১৫/২০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। পরে ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এলাকার লোকজন র‌্যাব সদস্যদের জানায়, ওই লোকের নাম শফিকুল ইসলাম, কুমিলস্না জেলার জিয়ার কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। শফিকুলকে র‌্যাব সদস্যরা আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করে। পরে আড়াইহাজার থানা পুলিশ লাশের ময়না তদমেত্মর জন্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র এবং গুলির খোসা উদ্ধর করা হয়। জব্দ তালিকা তৈরি করে ইউনুস বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় দুইটি মামলা করেন। তিনি বলেন, শফিকুলের বিরম্নদ্ধে কুমিলস্নার দাউদকান্দি এবং তিতাস থানায় ৩৮টি মামলা রয়েছে। মামলা সংক্রামত্ম বিষয় জানার জন্যে র‌্যাব ফোর্সেস হেডকোয়ার্টারে যোগাযোগ করতে বলেন।

মেজর মোঃ খুরশিদ আলম, পিএসসি,জি, ডেপুটি ডাইরেক্টর, লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং, র‌্যাব ফোসের্স হেডকোয়াটারর্স, ঢাকা 

মেজর মোঃ খুরশিদ আলম অধিকারকে বলেন, শফিকুলের নামে দাউদকান্দি এবং তিতাস থানায় ৩৮টি মামলা রয়েছে। কিন্তু অধিকারকে তিনি কোন থানায় কয়টি মামলা তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এসআই শুভ রঞ্জন চাকমা, তিতাস থানা, কুমিলস্না

এসআই শুভ রঞ্জন চাকমা অধিকারকে জানান, জিয়ার কান্দি গ্রামের মোঃ হান্নানের স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে শফিকুল ইসলামসহ ৯ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৯; তারিখঃ ১৮/১১/২০১০। ধারা-১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৪ দ-বিধি। তিনি মামলাটি তদমত্ম করেন। তিনি তদমেত্ম এজাহার ভুক্ত কোন আসামীকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাননি। তবে তদমত্ম করতে গিয়ে ৪জন ঘটনার প্রকৃত আসামীর নাম খুঁজে পান। তিনি ওই ৪জনের বিরম্নদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। চার্জশীট নম্বর ০৯(৪); তারিখঃ ২৭/০৩/২০১০। তিনি জানান, এছাড়া তিতাস উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ পারভেজ হোসেন সরকার বাদী হয়ে শফিকুলের নামে একটি জেনারেল ডায়রী (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ৮৯৫; তারিখঃ ২৫/০৮/২০১০। তিতাস থানায় শফিকুলের নামে আর কোন মামলা নেই বলে জানান।

একেএম কাউসার চৌধুরী, অফিসার ইনচার্জ, দাউদকান্দি থানা, কুমিলস্না

একেএম কাউসার চৌধুরী অধিকারকে জানান, ৪ এপ্রিল ২০১১ র‌্যাব-১১ এর সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলিতে শফিকুল মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তিনি জানান, শফিকুলের নামে ২/৩টি রাজনৈতিক মামলা ছিল যে গুলোতে তিনি আদালত থেকে খালাস পেয়েছিলেন। তাঁর জানামতে, জিয়ার কান্দি গ্রামের নজির আহমেদের ছেলে মোঃ আল আমিন মিয়া বাদী হয়ে শফিকুলের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৬; তারিখঃ ২১/১১/২০১০। ধারা-১৪৩/৩৪১/৩০২/৩৪ দ-বিধি। মামলায় ১৪জনকে আসামী করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওই মামলায় আসামীগণ হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। মামলাটির তদমত্মকারী কর্মকর্তা হিসাবে গৌরীপুর তদমত্ম কেন্দ্রের ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্বে রয়েছেন। র‌্যাব সদস্যদের তালিকায় শফিকুলের বিরম্নদ্ধে ৩৮টি মামলা আছে বলে জানালে তিনি অধিকারকে বলেন, শফিকুলের নামে ৩৮টি মামলা কোথায় আছে তা র‌্যাব সদস্যরাই ভাল জানেন।

এসআই জাহাঙ্গীর আলম, গৌরীপুর তদমত্ম কেন্দ্র, দাউদকান্দি, কুমিলস্না

এসআই জাহাঙ্গীর আলম অধিকারকে জানান, ৪ এপ্রিল ২০১১ রাত ২.৩০টার দিকে র‌্যাব-১১ এর সদস্যদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে আসামী শফিকুল মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তিনি দাউদকান্দি থানার ২১/১১/২০১০ তারিখের ১৬ নম্বর মামলাটি তদমত্ম করছেন। এই মামলায় শফিকুলসহ সকল আসামী হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। শফিকুলের নামে থানায় আর কোন মামলা আছে কিনা তাঁর জানা নেই বলে জানান।

ডাঃ খান মোঃ জহির উদ্দিন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স, নারায়ণগঞ্জ

ডাঃ খান মোঃ জহির উদ্দিন অধিকারকে জানান, ৪ এপ্রিল ২০১১ সকালে র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা গুলিবিদ্ধ একটি লাশ হাসপাতালে আনেন। তিনি তখন স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান এবং উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইসমাইল হোসেন মৃতের সনদপত্র দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ময়না তদমেত্মর জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ডাঃ আ খ ম শফিউজ্জামান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

ডাঃ আ খ ম শফিউজ্জামান তথ্যানুসন্ধানকালে হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বাবুল, মর্গ-সহকারী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

বাবুল অধিকারকে বলেন, ৪ এপ্রিল ২০১১ সকালের দিকে আড়াইহাজার থানার পুলিশ সদস্যরা শফিকুল নামে এক ব্যক্তির লাশ আনেন। কিন্তু লাশটি পাহারায় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে র‌্যাব সদস্যরাও ছিলেন। কাগজপত্রে জটিলতার কারণে ডাক্তার ময়না তদমত্ম না করায় বিকাল ৩.০০টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা লাশটি নিয়ে চলে যান। বিকাল ৪.০০টার দিকে লাশ মর্গে আনা হলে ডাঃ আ খ ম শফিউজ্জামান লাশের ময়না তদমত্ম করেন। ময়না তদমত্ম নম্বর ৫৯২। লাশের বুকে এবং বাম পাঁজরে মোট পাঁচটি গুলির চিহ্ন ছিল বলে তিনি জানান। তিনি লাশের গোসল করিয়ে দিলে তাহমিনা নামের একজন মহিলা মর্গ থেকে লাশ নিয়ে যান।

অধিকার এই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি বিধানের জন্যে সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছে।

 

ছবিঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম

ছবিঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম

Leave a Reply